ShopeBusiness Non Technical Blog

Published At 2026/Oct/04
No Image Found

Shop-E-Business Non Technical Blog

শপ-ই-বিজনেস (Shop-E-Business) — একজন মার্চেন্ডাইজারের জন্য সহজ ব্যাখ্যা

এই ডকুমেন্টটি এমনভাবে লেখা যাতে টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই বোঝা যায়।


১) Shop-E-Business আজকে যা সমস্যা সমাধান করে

সমস্যাটা কী?

আপনি মার্চেন্ডাইজার হিসেবে জানেন — বাংলাদেশে হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ী ফেসবুক পেজ থেকে ব্যবসা চালায়। তাদের দৈনন্দিন কাজ:

  1. পেজে পণ্যের ছবি ও দাম পোস্ট করা
  2. ক্রেতারা কমেন্ট/মেসেজে জিজ্ঞেস করে — “দাম কত?”, “স্টকে আছে?”, “রাজশাহীতে ডেলিভারি দেওয়া যাবে?”
  3. সারাদিন এক এক করে উত্তর দেওয়া
  4. কোনো পণ্যের স্থায়ী লিংক নেই — বিজ্ঞাপনে দেওয়ার কিছু নেই, Google-এ খুঁজে পাওয়া যায় না
  5. অর্ডার লেখা হয় খাতায় বা চ্যাটে — হারিয়ে যায়, গণনা করা যায় না

Shop-E-Business কীভাবে এটা ঠিক করে?

সহজ ভাষায়: একটা দোকানদারকে তার নিজস্ব ওয়েবসাইট দেয় — ডেভেলপার, সার্ভার বা বড় খরচ ছাড়াই।

আগে (ফেসবুক-অনলি)Shop-E-Business-এ
পণ্যের কোনো লিংক নেইপ্রতিটি পণ্যের নিজস্ব URL (যেমন yourstore.shopebusiness.com/mens-leather-jacket)
প্রতিটি প্রশ্নের ম্যানুয়াল উত্তরক্রেতা নিজেই দাম, সাইজ, ডেলিভারি চার্জ দেখে নেয়
খাতায়/চ্যাটে অর্ডারসব অর্ডার এক ড্যাশবোর্ডে — নাম, ফোন, ঠিকানা, পরিমাণ
ডোমেইন/হোস্টিং/কোডিং জানতে হয়রেজিস্টার → পণ্য আপলোড → লিংক শেয়ার

মূল ফ্লো (৩ ধাপ):

  1. দোকানদার রেজিস্টার করে → সাথে সাথে shopname.shopebusiness.com ঠিকানায় নিজের স্টোর পায়
  2. পণ্য আপলোড করে → ছবি, দাম, সাইজ, ক্যাটাগরি, ডেলিভারি চার্জ
  3. ফেসবুকে লিংক শেয়ার করে → ক্রেতা লিংকে গিয়ে অর্ডার করে → দোকানদারের ইমেইলে নোটিফিকেশন যায়

কেন এটা বাংলাদেশি বাজারের জন্য বানানো?

  • দাম: মাত্র ৳৪৯৯/বছর (বাংলাদেশ), $10/বছর (আন্তর্জাতিক) — Shopify/Wix-এর তুলনায় ~১০০ গুণ সস্তা
  • ক্রেতাকে অনলাইনে পে করতে হয় না — COD/ফোনে কনফার্ম করে পেমেন্ট নেওয়া যায়, তাই কার্ড গেটওয়ে লাগে না
  • কোনো কমিশন নেই — প্রতি বিক্রিতে প্ল্যাটফর্ম ফি ০%
  • ৩ দিনের ফ্রি ট্রায়াল
  • ৩টা থিম (Classic, Grocery Inspired, Fashion Luxe) — দোকানের ধরন অনুযায়ী লুক বদলানো যায়

অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (সাপ্লাই চেইন দৃষ্টিকোণ থেকে)

প্রতিটি অর্ডার একটা ফুলফিলমেন্ট ওয়ার্কফ্লোতে চলে যায়:
Initial → Confirmed → Packed → Shipped → Delivered (বা Cancelled)

অর্থাৎ যে অর্ডার-টু-ডেলিভারি পাইপলাইন আপনি রিজেন্টে স্প্রেডশিটে ম্যানেজ করতেন, এখানে তা বিল্ট-ইন।

আজকের সীমা (সৎভাবে বলা)

  • স্টক/ইনভেন্টরি ট্র্যাকিং নেই — কত পিস আছে তা সিস্টেম জানে না, “সোল্ড আউট” দেখানো যায় না
  • কুপন/ডিসকাউন্ট ইঞ্জিন নেই — সেল চালাতে হলে ম্যানুয়ালি দাম বদলাতে হয়
  • ক্রেতার অ্যাকাউন্ট নেই — রিপিট কাস্টমার চেনা যায় না
  • পেমেন্ট গেটওয়ে নেই — টাকা সংগ্রহ প্ল্যাটফর্মের বাইরে হয়

২) ভবিষ্যতে Shop-E-Business কী হতে পারে

ইনভেন্টরি, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, পেমেন্ট — এই তিনটা ফাঁক পূরণ করলে এটি পূর্ণাঙ্গ কমার্স প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে। সাপ্লাই চেইন দৃষ্টিকোণে সম্ভাব্য রোডম্যাপ:

পর্যায় ১ — ইনভেন্টরি ও ক্যাটালগ

  • স্টক লেভেল ট্র্যাকিং — সাইজভিত্তিক পরিমাণ, অটো “সোল্ড আউট”, লো-স্টক অ্যালার্ট
  • SKU / ভ্যারিয়েন্ট ম্যাট্রিক্স — সাইজ × কালার কম্বিনেশন (কোডে এখন শুধু সাইজ আছে)
  • বাল্ক আপলোড — CSV/এক্সেল দিয়ে শত শত পণ্য একসাথে আপলোড (মার্চেন্ডাইজারদের সবচেয়ে দরকারি ফিচার)
  • ডিসকাউন্ট/সেল প্রাইস — কমপেয়ার-অ্যাট প্রাইস, সিজনাল সেল রেল, কুপন কোড

পর্যায় ২ — অর্ডার ও ফুলফিলমেন্ট গভীর করা

  • কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন — Pathao/RedX/Steadfast API দিয়ে বুকিং, ট্র্যাকিং ID স্বয়ংক্রিয়
  • অর্ডার এক্সপোর্ট — অ্যাকাউন্টিং/রিপোর্টিংয়ের জন্য এক্সেল ডাউনলোড
  • রিটার্ন/এক্সচেঞ্জ ফ্লো — ফ্যাশন ব্যবসায় এটা বড় ব্যথা
  • কাস্টমার ডাটাবেস — ফোন নম্বর দিয়ে রিপিট ক্রেতা চেনা, অর্ডার হিস্টরি

পর্যায় ৩ — পেমেন্ট ও স্কেল

  • bKash/Nagad গেটওয়ে — অগ্রিম পেমেন্ট বা আংশিক অ্যাডভান্স (ফেক অর্ডার কমায়)
  • মাল্টি-স্টাফ অ্যাকাউন্ট — দোকানের কর্মচারীদের আলাদা লগইন ও পারমিশন
  • সাপ্লায়ার/হোলসেল মোড — B2B প্রাইস লেয়ার, মিনিমাম অর্ডার কোয়ান্টিটি
  • অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ড — কোন পণ্য/ক্যাটাগরি বেশি বিকে, রিজিওনভিত্তিক চাহিদা — ডিম্যান্ড ফোরকাস্টিং-এর কাঁচামাল

বড় ছবি

Shop-E-Business আজ “ফেসবুক সেলারের ওয়েবসাইট” — ভবিষ্যতে হতে পারে “বাংলাদেশি মাইক্রো-ব্র্যান্ডের পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম”: ক্যাটালগ → অর্ডার → ইনভেন্টরি → কুরিয়ার → পেমেন্ট → রিপোর্ট, সব এক জায়গায়।


৩) আপনার (মার্চেন্ডাইজার) ভূমিকা — বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

আপনার সাপ্লাই চেইন জ্ঞান এখানে অপ্রত্যাশিতভাবে মূল্যবান, কারণ প্ল্যাটফর্মের টার্গেট ইউজার ঠিক সেই মানুষ যার কাজ আপনি প্রতিদিন দেখেন।

বর্তমানে (আজকের প্রোডাক্ট নিয়ে)

ভূমিকাকী করবেন
প্রোডাক্ট কনসালট্যান্টপ্ল্যাটফর্মটি বাস্তব দোকানদারের চোখে টেস্ট করুন — পণ্য আপলোড, সাইজ সেটআপ, অর্ডার ফ্লোতে কোথায় ঝামেলা তা খুঁজে বের করুন
ফিচার প্রায়োরিটাইজারডেভেলপারকে বলুন স্টক ট্র্যাকিং আগে না কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন আগে — কোনটা না থাকলে দোকানদার প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাবে, সেটা আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন
ডেমো পাইলট দোকানএকটি বাস্তব পণ্যের স্টোর বানান (বন্ধু/পরিচিত কারো) — পুরো ফ্লো শেষ-টু-শেষ চালান: আপলোড → শেয়ার → অর্ডার → ডেলিভারি
অনবোর্ডিং গাইডনতুন দোকানদারদের জন্য বাংলায় সেটআপ গাইড/ভিডিও স্ক্রিপ্ট লিখুন — ক্যাটাগরি কীভাবে সাজাবেন, ডেলিভারি চার্জ কীভাবে ভাববেন
ফিল্ড রিসার্চফেসবুক সেলারদের ইন্টারভিউ করুন — তারা কী চায়, কোথায় আটকে যায়

ভবিষ্যতে (প্ল্যাটফর্ম বড় হলে)

ভূমিকাকেন আপনি ফিট
Head of Merchant Operationsহাজার দোকান চালু হলে অনবোর্ডিং, সাপোর্ট, সাকসেস প্রক্রিয়া কারো তো ডিজাইন করতে হবে — এটাই অপারেশনস
প্রোডাক্ট ম্যানেজার (সাপ্লাই-চেইন ফিচার)ইনভেন্টরি, কুরিয়ার, রিটার্ন মডিউলের রিকোয়ারমেন্ট লিখতে হবে — ডোমেইন জ্ঞান ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার এটা পারবে না
সাপ্লায়ার-সাইড পার্টনারশিপকুরিয়ার কোম্পানি, প্যাকেজিং সাপ্লায়ার, হোলসেলারদের সাথে ডিল — আপনার নেটওয়ার্ক সরাসরি কাজে লাগবে
মার্চেন্ট সাকসেসদোকানদারদের শেখানো: কোন পণ্য ফিচার করবেন, সিজনাল স্টক কীভাবে প্ল্যান করবেন, ডেলিভারি চার্জ কীভাবে প্রাইস করবেন

এক লাইনে

Shop-E-Business আজ দোকানদারের “ডিজিটাল দোকানের সামনের অংশ” বানিয়েছে; আপনার মতো কেউ দরকার যে “দোকানের পেছনের অংশ” — স্টক, ফুলফিলমেন্ট, সাপ্লায়ার — বুঝে এবং প্ল্যাটফর্মকে সেদিকে নিয়ে যেতে পারে।